‘মশা নিধন হচ্ছে না দুর্নীতির কারনেই’

দুর্নীতির কারণে মশা নিধন হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ডেংগু, খুন, ধর্ষণের প্রতিবাদে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। গণফোরাম ঢাকা মহানগর কমিটি এ কর্মসূচির আয়োজন করে। অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, ‘বর্তমানে মন্ত্রীরা যত কথা বলেন সব কথা এক জায়গায় করলে দেখা যাবে বাংলাদেশে একটি মশাও নেই, সব মরে গেছে। কিন্তু তারা শুধু কথাই বলেন, মশা মারার কোনো ব্যবস্থা করেন না। দেশে একটি মশাও তো মরে না, কারণ তারা যে ওষুধ নিয়ে আসেন সেই ওষুধের মধ্যেও দুর্নীতি করেন, যার কারণে সে ওষুধ দ্বারা মশা নিধন হয় না’।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে, দুঃশাসনের কারণে দেশের প্রতিটি মানুষ তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে মাঠে নেমেছে। কিন্তু কারো দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া হচ্ছে না। এই সরকারের একটা নীতি আছে, যেভাবেই হোক, লুট করে হোক, ট্যাক্স আদায়ের মাধ্যমে হোক, ভ্যাট আদায়ের মাধ্যমে হোক- গরিবদেরকে লুট করো ধনীদের কাছে দাও। যার কারণে বাংলাদেশে আজ ধনী-গরিবের যে বিরাট পার্থক্য, পৃথিবীতে এ রকম পার্থক্য আর কোনো দেশে নেই’।

বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক সরকার নয় মন্তব্য করে অদ্যাপক সাইয়িদ বলেন, ‘এটা হচ্ছে স্বৈরাচারী, একনায়কতন্ত্র, জুলুমবাজ সরকার। জনগণের সরকার নয়, এরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তাই তারা জনগণকে দেখভাল করে না। তাই এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানো যাবে’।

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, মন্ত্রীদের কথা ও দাপটের তোড়ে দেশের সব মশাদের ধ্বংস হওয়ার কথা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যর্থতার জন্য নেতৃবৃন্দ দায়িত্বহীনতার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ঢাকার দুই মেয়রের পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের দুঃখে এ সরকারের অনেকে জনগণের পাশে থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দলটির সভাপতি পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক ও মেজর জেনারেল অব. আমসাআ আমীন, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর, মো. মিজানুর রহমান, শাহ নুরুজ্জামান, মো. ইয়াসিন, অধ্যাপক খোরশেদ আলম।

পাঠকের মতামত