কোন রোগে ধরেছে তামিমকে

বিশ্বকাপ থেকেই অফ ফর্মে তামিম ইকবাল। শ্রীলংকা সফরেও ছন্দ ফিরতে পারেননি দেশসেরা এ ওপেনার। সবশেষ সাত ওয়ানডেতে তার সংগ্রহ মাত্র ১১৪ রান। বুধবারের আগে টানা ছয় ম্যাচে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তামিমই সর্বোচ্চ ৩১ ওয়ানডেতে বোল্ড আউটের বাজে রেকর্ড গড়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তামিমের বাজে পারফরম্যান্সের প্রভাব জাতীয় দলের রেজাল্টের ওপরও পড়ছে। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এতটা খারাপ সময় যায়নি তার।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই খেলায় হেরে ইতিমধ্যেই ট্রফি হাতছাড়া করেছে টাইগাররা। পরপর দুই ম্যাচে হেরে হোয়াইটওয়াশের আশঙ্কায় বাংলাদেশ দল। এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে ২৯৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারান তামিম। শ্রীলংকার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ছয় বল খেলে মাত্র ২ রানে ফেরেন তামিম। তার বিদায়ে মাত্র ৪ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। এর আগে প্রথম দুই ওয়ানডেতে শূন্য ও ১৯ রানে ফেরেন জাতীয় দলের বর্তমান এ অধিনায়ক। শ্রীলংকা সিরিজে ব্যাট হাতে তামিমের সংগ্রহ তিন ম্যাচে মাত্র ২১ রান।

শ্রীলংকা ২৯৪/৮

প্রথমে ব্যাট করে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও কুশল মেন্ডিসের জোড়া ফিফটিতে ৮ উইকেটে ২৯৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে শ্রীলংকা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৭ রান করেন ম্যাথিউস। তার ইনিংসটি ৯০ বলে আটটি চার ও এক ছক্কায় সাজানো। এ ছাড়া ৫৪ রান করেন মেন্ডিস। ৪৬ ও ৪২ রান করেন করুনারত্নে ও কুশল পেরেরা।

বুধবার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং করে শ্রীলংকা। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। দলীয় ১৩ রানে লংকান ওপেনার অভিস্কা ফার্নান্দোকে এলবিডব্লিউ করে টাইগার শিবিরে স্বস্তির পরশ এনে দেন পেসার শফিউল ইসলাম।

ওয়ান ডাউনে ব্যাটিংয়ে নামা কুশল পেরেরাকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামত করেন অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে। দ্বিতীয় উইকেটে ৮৩ রানের জুটি গড়েন। তাদের এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ওয়ানডে ক্রিকেটে তিন বছর পর খেলতে নেমে উইকেটের সাফল্য পান তাইজুল। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের পর গত রোববার ওয়ানডে ক্রিকেট খেলতে নেমে শ্রীলংকার বিপক্ষে কোনো সাফল্য পাননি এই বাঁহাতি স্পিনার।

বুধবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে লংকান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নেকে আউট করেন তাইজুল। এদিন ওয়ানডে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ম্যাচে তাইজুল শিকার করলেন ষষ্ঠ উইকেট। তার স্পিনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে করুনারত্নে করেন ৬০ বলে ৪৬ রান।
এরপর মাত্র ২ রানের ব্যবধানে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যাওয়া কুশল পেরেরাকে ফেরান রুবেল হোসেন। তার বিদায়ে ৯৮ রানে ৩ উইকেট হারায় লংকানরা। এরপর কুশল মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে অনবদ্য জুটি গড়েন শ্রীলংকান সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। এই জুটিতে তারা ১০১ রান যোগ করেন।

বিপজ্জনক হয়ে ওঠা ম্যাথিউস-মেন্ডিসের মধ্যকার জুটি ভাঙেন সৌম্য সরকার। ফিফটি তুলে নেয়া কুশল মেন্ডিসকে আউট করেন সৌম্য। তার আগে ৫৮ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। তার বিদায়ে ৪১.৩ ওভারে ১৯৯ রানে ৪ উইকেট হারায় শ্রীলংকা।

ছয় নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রীতিমতো তাণ্ডব চালান দাসুন শানাকা। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যান তিনি। পঞ্চম উইকেটে ম্যাথিউসের সঙ্গে মাত্র ২৮ বলে ৫২ রানের জুটি গড়েন শানাকা। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ১৪ বলে ৩০ রান করা শানাকাকে দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন শফিউল। সাব্বির রহমান রুম্মনের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন শানাকা।

দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। শতরানের মাইলফলক স্পর্শ করতে ইনিংসের শেষ ওভারে তার প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। সৌম্য সরকার শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে শুরুতেই ওয়াইড দেন। পরের ডেলিভারিতে কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ম্যাথিউস। অসাধারণ ব্যাটিং করেও মাত্র ১৩ রানের জন্য শতরানের দেখা পাননি শ্রীলংকান সাবেক অধিনায়ক ম্যাথিউস। ফেরেন ৯০ বলে ৮৭ রানে। ঠিক পরের বলে আকিলা ধনাঞ্জয়ার উইকেট তুলে নেন সৌম্য। তবে শেষ দুই বলে ডি সিলভার ব্যাক টু ব্যাক বাউন্ডারিতে শ্রীলংকার স্কোর দাঁড়ায় ২৯৪।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলংকা: ৫০ ওভারে ২৯৪/৮ (ম্যাথিউস ৮৭, মেন্ডিস ৫৪, করুনারত্নে ৪৬, কুশল পেরেরা ৪২, শানাকা ৩০, শিহান জয়সুরিয়া ১৩, ডি সিলভা ১২*; সৌম্য ৩/৫৬, শফিউল ৩/৬৮, রুবেল ১/৫৫, তাইজুল ১/৩৪)।

পাঠকের মতামত