গির্জার পর এবার শ্রীলঙ্কার মসজিদে পেট্রোল বোমা হামলা

শ্রীলঙ্কার পুত্তালুম জেলায় একটি মসজিদে পেট্রোল বোমা হামলা চালানো হয়েছে। রবিবার (২২ এপ্রিল) রাতে এ হামলা চালানো হয়। এ সময় বান্দারাগামা এলাকায় মুসলিম মালিকানাধীন দুটি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এজেন্সিয়া ইএফই নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। এর আগে রবিবার দিনে শ্রীলংকায় রাজধানী কলম্বোর গির্জা ও পাঁচতারকা হোটেলসহ আটটি স্থানে সিরিজ বিস্ফোরণ হয়। এ ঘটনায় ক্রমেই নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০ জনে দাঁড়িয়েছে।

হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৬ জন বিদেশি। এ ছাড়া ৫০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। সোমবার সকালে পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকারা হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুয়ান বিজয়বর্ধন জানিয়েছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন তদন্তকারীরা। সোমবার পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকারা এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান। তবে গ্রেফতারকৃতদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।

তিনি জানান, হামলায় নিহতদের মধ্যে ৩০ জন বিদেশিও রয়েছেন। দেশ এবং দেশের জনগণকে নিরাপদ রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করছে বলেও জানান রুয়ান বিজয়বর্ধন। তিনি বলেন, আমাদের বিশ্বাস দুর্ভাগ্যজনক এই সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত সব অপরাধীকে যত দ্রুত সম্ভব হেফাজতে নেওয়া হবে। তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। ১১ এপ্রিল পুলিশ প্রধান পুজুথ জয়াসুনদারা দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত গোয়েন্দা সতর্কতা পাঠান।

এতে বলা হয়, ‘একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে যে, ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত (এনটিজে) প্রখ্যাত চার্চ এবং কলম্বোয় ভারতীয় হাইকমিশন লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।’ তবে এখনও পর্যন্ত রবিবারের হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনও গোষ্ঠী।
এ দিকে এ ঘটনায় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আট বছর বয়সী নাতি জায়ান চৌধুরী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার জামাতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স। প্রসঙ্গত, গতকাল ছিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ইস্টার সানডে। হামলার সময় তিন গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল।

পাঠকের মতামত