রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে ব্রুনাই

নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে যে কোনো উদ্যোগে ব্রুনাই সমর্থন দেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়া। সোমবার (২২ এপ্রিল) ব্রুনাইয়ের রাজধানী বন্দর সেরি বেগওয়ানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠকে সুলতান বলকিয়ার এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সুলতানের সরকারি বাসভবন ইস্তানা নূরুল ইমানে এই বৈঠক হয় বলে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানান। তিনি আরও জানান, দ্বিপাক্ষীয় বৈঠকে ব্রুনাইয়ের সুলতান রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন।

আমাদের সবাই মিলে একটা সমাধানে আসা উচিত। আমাদের সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত, যাতে তারা ফিরে যেতে পারে। রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠাতে যে কোনো উদ্যোগে ব্রুনাই সমর্থন দেবে। পররাষ্ট্র সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্রুনাইসহ আশিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিত কামনা করেন। এসময় তিনি ব্রুনাইয়ের সুলতান ও তার স্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে সুলতান তা গ্রহণ করেন । বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়ার উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে সাতটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে ছয়টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং একটি বিনিময় নোট।

চুক্তিগুলো হলো- কৃষি ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), মৎস্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, পশুসম্পদ ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, সাংস্কৃতিক ও শিল্প সহযোগিতা সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক, যুব ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, এলএনজি সরবরাহে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক এবং কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্ট হোল্ডারদের জন্য ভিসার ছাড় সংক্রান্ত বিনিময় নোট। রোববার ব্রুনেই পৌঁছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বাংলাদেশ হাই কমিশনারের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন।

সোমবার বিকালে এম্পায়ার হোটেলে ব্রুনেই ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনুষ্ঠেয় এক বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি জামে আসর মসজিদ পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে আসরের নামাজ আদায় করবেন। রাতে সুলতানের দেওয়া ভোজসভাতেও তিনি যোগ দেবেন।
মঙ্গলবার সকালে ব্রুনেইয়ের রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা জালান কেবাংসানে বাংলাদেশ হাই কমিশনের নতুন চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন শেখ হাসিনা। পরে তিনি রয়েল রেজালিয়া জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। সেদিন স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় ঢাকার উদ্দেশে ব্রুনাই ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার।

পাঠকের মতামত