কোরআন অবমাননার জন্য গ্রেফতার হলেন সেফুদা

কয়েকদিন আগে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে মহানবী (সাঃ) কে ও পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননার জন্যে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠেছে সেফাতুল্লাহ (সেফুদা)’র বিরুদ্ধে। দেশের বিভিন্ন জায়গাতে তার বিচারের দাবিতে হচ্ছে আন্দোলন, মানববন্ধন। অবশেষে পবিত্র ইসলাম ধর্ম, কোরআন শরিফ এবং মহানবী হযরত মুহম্মদকে (স.) অবমাননাকারী সেফাত উল্লাহ সেফুদার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধে মামলা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অস্ট্রিয়ার ১৬ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট বরাবর এ মামলা করেন বাংলাদেশি কমিউনিটি মসজিদ নিয়ে গঠিত সম্মিলিত জোট। সম্মিলিত জোটের পক্ষে বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ ভিয়েনার সিনিয়র ইমাম এবং মাদানি কোরআন স্কুল ভিয়েনার প্রতিষ্ঠাতা ড. ফারুক আল মাদানি, বায়তুল মামুর মসজিদের সভাপতি মহসিন মোল্লা এবং জাফর এ মামলা করেন।

প্রাথমিকভাবে সাইবার ক্রাইম ইউনিট বিশেষজ্ঞরা এটিকে গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছেন এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২ বছরের জেল জরিমানা হতে পারে। বর্তমানে অস্ট্রিয়াতে ইস্টার সানডের ছুটি চলছে এবং ছুটির পর এই বিষয়ে তদন্ত শুরু হবে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে এবং অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তার সমস্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাওয়া হবে।

এ বিষয়ে ভিয়েনাস্থ প্রবাসী বাংলাদেশি কবির আহমেদ জানান, অচিরেই নাস্তিক সেফাত উল্লাহ শাস্তি নিশ্চিত হবে। উল্লেখ্য, গত ৭-৮ বছর আগেও ইসলাম ধর্ম অবমাননা করার জন্যে এই সেফাত উল্লাহর বিরুদ্ধে ভিয়েনার বায়তুল ফালাহ মসজিদের পক্ষে ইঞ্জিনিয়ার এম এ হাসেম একটি মামলা দায়ের করেন। সেফাত উল্লাহ বিগত বছরগুলোতেও ইসলাম ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপুর্ণ বক্তব্য দিয়ে তোপের মুখে পড়েন।

সর্বশেষ গত ১৭ এপ্রিল ফেসবুক লাইভে ইসলাম ধর্ম, পবিত্র কোরআন এবং মহানবী হজরত মোহাম্মদকে (স.) নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। এই ভিডিও দেখে ভিয়েনার মুসলিম সমাজের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করে। অনেকেই সেফুদার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

সেফুদাকে ধরিয়ে দিতে ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। সেফুদাকে দেশে অথবা বিদেশে আইনের হাতে তুলে দিতে পারলে দুই লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করছেন ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল।

পাঠকের মতামত