পদ্মা সেতুর ১৬৫০ মিটার দৃশ্যমান হবে আজ

পদ্মা সেতুর ১১তম স্প্যানটি জাজিরা প্রান্তে ৩৩ ও ৩৪ নম্বর পিলারের উপর আজ বসানো হবে। আর এ স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে সেতুর দুই প্রান্তে দৃশ্যমান হবে ১৬৫০ মিটার। সোমবার (২২ এপ্রলি) বেলা ১১টায় স্প্যান বহনকারী ক্রেনটি মুন্সীগঞ্জের কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের ৩৪ ও ৩৩ নম্বর পিলারের কাছে এনে রাখে ১১তম স্প্যানটি। সর্বশেষ গত ৯ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ১৩ ও ১৪ নম্বর পিলারের উপর বসানো হয়েছিল সেতুর দশম স্প্যান। স্বপ্নের এই সেতুটি তৈরি করা হবে ৪২টি পিলারের উপর ৪১টি স্প্যানের সমন্বয়ে।

১৫০ মিটার লম্বা ও প্রস্থ ১৩ মিটার বিশাল স্প্যানটি তিন হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার “তিয়ান ই” ক্রেন দিয়ে উঠানো হয়। স্প্যানটি বসানোর পর জাজিরা প্রান্তে সেতুর দৃশ্যমান হবে ১৩৫০ মিটার। এছাড়া মাওয়া প্রান্তে দুটি স্প্যান বসানো হয়েছে। এর ফলে সেতুর মোট দৃশ্যমান হবে ১৬৫০ মিটার। পদ্মা সেতুর প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, ১০টি স্প্যান বসানোর পাশাপাশি সেতুর ২৪৭টি পাইল বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৪৭টি পাইলের মধ্যে ১৫টি পাইলের অর্ধেক বসানো হয়ে গেছে।

পদ্মা সেতুর পিলার ৪২টি। এর মধ্যে ২২টি পিলার নির্মাণ শেষ। আগামী জুন মাসের মধ্যে বাকি আরও ১০টি পিলার নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাবে। তখন আরও গতিতে স্প্যান বসানো যাবে। প্রতি মাসে দুটি করে স্প্যান বসানো তখন সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনের চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং এমবিইসি সূত্র জানায়, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু গড়তে তাদের সবচেয়ে বেশি যুদ্ধ করতে হয়েছে পদ্মার তলদেশে। তলদেশে মাটির গঠনগত বৈচিত্র্যের কারণে ১১ পিয়ারের নকশায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। শুরুর দিকে মাওয়া অংশে কাজ বাদ দিয়ে জাজিরা চলে যেতে হয়েছে। তারপর বছরখানেক পর পুনরায় মাওয়া অংশে কাজ শুরু হয়।

জাজিরা প্রান্ত থেকে পদ্মা সেতুর রোড স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। ছয় লেন প্রশস্ত চারটি রোড স্ল্যাব বসে গেছে। পদ্মা সেতুতে ২ হাজার ৯৩১টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসবে। প্রস্তুত করে রাখা আছে প্রায় ৩৫০ রোডওয়ে স্ল্যাব। এছাড়া ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ২৭২টি স্ল্যাব বসেছে স্প্যানগুলোতে। এ পর্যন্ত সেতুর অগ্রগতি হয়েছে ৬৫ শতাংশ। আগামী বছরের শেষ দিকে পুরোপুরি কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে সে দেশেরই আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে সেতুর কাঠামো।

পাঠকের মতামত