বারবার রোগী সেজে গিয়ে নারী চিকিৎসককে উত্ত্যক্ত

ময়মনসিংহের রোগী সেজে এক নারী চিকিৎসককে উত্ত্যক্ত করতেন এক ব্যক্তি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েও কোনো সুরাহা করতে পারেননি তিনি। উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসায় আত্মরক্ষার জন্য আশ্রয় নিয়েছেন ওই চিকিৎসক। এ ঘটনায় পরে থানায় মামলা হয়েছে। ওই নারী চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত দেড় বছর আগে গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে আসেন তিনি। গত ৮ এপ্রিল রুবেল খান (২৫) নামে এক যুবক হাঁটুর ব্যথা নিয়ে তার কাছে চিকিৎসার জন্য আসেন। প্রয়োজনীয় ঔষুধের একটি ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন তিনি। পরে রুবেল চলে গেলে অন্যান্য রোগী দেখতে থাকেন তিনি।

পরদিন আবারও রুবেল তার কাছে আসেন অন্য রোগ দিয়ে। আবারও প্রয়োজনীয় ঔষুধের একটি ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন তিনি। এর কয়েকদিন পর পুনরায় রুবেল তার কাছে আসেন। সেবারও প্রেসক্রিপশন নিয়ে যান রুবেল। কিন্তু এর পর থেকে দুদিন পর পরই রুবেল তার কাছে আসতে থাকেন। তার কাছে অনুমতি না নিয়েই তার রুমে ঢুকে পড়তেন রুবেল। এ সময়গুলো তাকে নানা ধরণের কথাবার্তা বলে উত্যক্ত করার চেষ্টা করতেন। এ ঘটনায় একদিন তিনি প্রতিবাদ করলে রুবেল তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে বেরিয়ে যান। এমনকি তাকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে (ইউএইচও) জানান।

কিন্তু হাসপাতাল থেকে তাকে কোনো ধরণের সাহাজ্য করা হয়নি। বরং স্থানীয় ব্যক্তির ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে পরামর্শ দেওয়া হয় চিকিৎসককে। গত শনিবার নিজ কক্ষে বসে খাবার খাচ্ছিলেন গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই চিকিৎসক। এ সময় রুবেল অনুমতি না নিয়ে তার কক্ষে প্রবেশ করেন। একটি ‍গুড়ো দুধের প্যাকেট তার টেবিলে ছুঁড়ে ফেলে খেতে বলেন। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মী ছুঁটে সেখানে আসেন। পরে রুবেল পালিয়ে যান। বিষয়টি তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেননি তিনি।
গতকাল সোমবার তিনি হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ শহরে নিজ বাসার উদ্দেশে রওয়ানা করেন। গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে যেতে রিকশায় উঠলে রুবেল তার পথ আঁকড়ে দাঁড়ান। এ সময় সিগারেট পান করছিলেন রুবেল।

এক পর্যায়ে রিকশায় চড়ে তার সঙ্গে বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু এই চিকিৎসক তার সঙ্গে না যেতে চাইলে অন্য একটি রিকশা করে বাসস্ট্যান্ডে আসেন রুবেল। বাসে ওঠার পরও চিকিৎসককে উত্যক্ত করতে থাকেন রুবেল। প্রথমে পানি ও পরে কফি এনে তাকে খেতে জোর করেন। কিন্তু তিনি খেতে না চাইলে তার মুখে চেপে ধরেন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে রুবেলকে কিলঘুষি ও ধাক্কা দিয়ে নিচে নেমে পড়েন তিনি। পরে সেখান থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ফারহানা করিমের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেন তিনি। পরে ইউএনওর পরামর্শে গৌরীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই চিকিৎসক।

এ বিষয়ে ইউএনও ফারহানা করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই নারী চিকিৎসক উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে আমার বাসায় আসেন। পরে আমি তাকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেই। আমিও থানায় নির্দেশ দিয়েছে যাতে পুলিশ রুবেল নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতারর করে। গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. মো. রবিউল ইসলাম জানান, তিনি নারী চিকিৎসককে উত্ত্যক্তের ঘটনা জেনেছেন তিনদিন আগে। এর আগে তিনি কিছুই জানতেন না। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে রুবেলের বিরুদ্ধে নালিশ করেছেন। চেয়ারম্যান বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরে থানায় অভিযোগ দিতে বলেছেন। গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। রুবেল উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পাঠকের মতামত