শ্রীলংকায় ‘বোমা হামলাকারীদের বেশিরভাগই উচ্চ শিক্ষিত’

শ্রীলংকায় গির্জা ও হোটেলে ধারাবাহিক বোমা হামলায় জড়িতদের বেশিরভাগই উচ্চ শিক্ষিত বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুয়ান উইজারডিন। তিনি জানান, বোমা হামলাকারীদের মধ্যে একজন যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন এবং তিনি স্নাতকোত্তর করেছেন অস্ট্রেলিয়া থেকে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জানতে পেরেছি বোমা বিস্ফোরণকারীদের মধ্যে একজন প্রথমে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন ও পরে অস্ট্রেলিয়া থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন। পড়াশোনা শেষে এই হামলাকারী শ্রীলংকাতে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

রুয়ান উইজারডিন নিশ্চিত করে বলেন, বোমা বিস্ফোরণকারীদের যোগাযোগ আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে ছিল। এদের মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশে বাস করেছে বা পড়াশোনা করেছে। তিনি বলেন, আত্মঘাতী হামলাকারীদের অধিকাংশই উচ্চ শিক্ষিত। এদের মধ্যে অনেকেই বাইরের দেশ থেকে পড়াশোনা করে ফিরেছে। তারা মধ্যবিত্ত বা উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছে। তাই তারা অর্থনৈতিকভাবে স্ববলম্বী ছিল এবং তাদের প্রত্যেকের পরিবারের অবস্থাও ভালো। আর এটাই চিন্তার বিষয়।

এদিকে শ্রীলংকায় গির্জা ও হোটেলে ধারাবাহিক বোমা হামলায় ৩৫৯ জন নিহতের ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। মঙ্গলবার এই গোষ্ঠীর নিজস্ব সংবাদ মাধ্যম আমাক নিউজ এজেন্সি একথা জানিয়েছে। তবে শ্রীলংকার প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুয়ান উইজারডিন জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার প্রতিশোধ নিতেই শ্রীলংকায় গির্জা, হোটেলসহ কয়েকটি স্থানে বোমা হামলা করা হয়েছে। ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত ও জামায়াতুল মিলাতু ইব্রাহিম নামে দুইটি ইসলামিক চরমপন্থি সংগঠন এই হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে সোমবার হামলার ঘটনায় দেশটির `ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত’ বা এনটিজে নামক একটি চরমপন্থী ইসলামি সংগঠন দায়ী বলে ধারণা করে শ্রীলংকার পুলিশ। তাদের ধারণা, ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো যারা ঘটিয়েছে তাদের বড় অংশ একটি এই উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত। এই গোষ্ঠীটি স্থানীয়ভাবেই তাদের তৎপরতা চালায় বলে বলা হচ্ছে। দেশটি জানায়, স্থানীয় এই গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক এক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সহায়তায় এ সিরিজ হামলা চালিয়েছে। দেশটির তদন্তকারীরাও এই গ্রুপটির বিষয়ে বিশেষভাবে তদন্ত করছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রীলংকার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ও বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এনটিজে গ্রুপটি ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী ধ্যানধারণা লালন করে। সংগঠনটি ইসলামিক স্টেট (আইএস) গ্রুপকে সমর্থন করে বলে জানা যাচ্ছে। তবে এনটিজেও হামলার দায় স্বীকার করেনি। রোববার ইস্টার সানডের সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশে গির্জা ও হোটেলে সবমিলিয়ে আটটি স্থানে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা রোববার সকালে গির্জায় প্রার্থনা করার সময় শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোর একটিসহ দেশটির তিনটি গির্জায় একযোগে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। প্রায় একই সময় কলম্বোর তিনটি পাঁচ তারকা হোটেল– শাংরি লা, সিনামন গ্র্যান্ড ও কিংসবুরিতেও বোমার বিস্ফোরণ হয়। সকালে ছয়টি স্থাপনায় হামলার কয়েক ঘণ্টা পর দুপুরে কলম্বোর দক্ষিণাঞ্চলের দেহিওয়ালা এলাকায় একটি হোটেলে সপ্তম বিস্ফোরণটি ঘটে। এরপর কলম্বোর উত্তরে ওরুগোদাওয়াত্তা এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

পাঠকের মতামত