বিদায় বেলায়ও মা-বাবাকে কাছে পেলেন না জায়ান

রোববার ইস্টার সানডেতে শ্রীলংকায় রেস্তোরাঁয় সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় নিহত হয় জায়ান। সন্ত্রাসবাদের শিকার হয় ছোট্ট শিশুটি।
আর এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি তার বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স। বাবাকে আইসিইউতে রেখে লাশ হয়ে ফিরল জায়ান। ছেলেকে শেষ দেখা দেখতে পারলেন না মশিউল। শুধু্ই বাবাই নয়। ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে পারলেন শেখ সেলিমের মেয়ে ও জায়ানের মা শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া। কারণ বোমা হামলায় গুরুতর আহত হয়ে আইসিইউতে তার বাবা। আর মা বাবার পাশে।

জায়ান চৌধুরী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি। সপরিবারে শ্রীলংকা বেড়াতে গিয়েছিল সে। রোববার ইস্টার সানডেতে বাবা-ছেলে সেখানকার সাংগ্রি লা হোটেলের নিচতলার রেস্তোরাঁয় সকালের নাশতা করতে গিয়ে বোমা হামলার শিকার হন। সেই সময় হোটেল কক্ষে থাকায় বেঁচে গেছেন জায়ানের মা শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া ও ছোট ভাই দেড় বছর বয়সী জোহান চৌধুরী।

এ ঘটনায় তার বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বাবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। শরীরে পাওয়া গেছে বোমার স্প্লিন্টার। পাকস্থলীতেও প্রচণ্ড চোট লেগেছে। শরীর থেকে রক্ত ঝরেছে তিন কেজি। ৭২ ঘণ্টা না গেলে কিছুই বলা যাবে না। গুরুতর আহত জায়ানের বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্সকে এখনই দেশে ফেরানো যাচ্ছে না। তিনি কলম্বোর একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বামীর পাশে থাকায় ছেলের লাশের সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেননি জায়ানের মা শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া।

মাকে শ্রীলংকা রেখেই জায়ান চৌধুরী আজ ফিরেছেন নানাবাড়ি। তবে স্বাভাবিকভাবে নয়। ফিরেছেন লাশ হয়ে। বুধবার বেলা দেড়টার দিকে ছোট্ট জায়ানের লাশবাহী গাড়ি বনানীতে শেখ সেলিমের বাসায় পৌঁছায়। আদরের নাতির লাশ বুঝে নেন নানা শেখ সেলিম। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বজনরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

পাঠকের মতামত