অভিনেতা সালেহ আহমেদের মরদেহ দেখতে আসেননি কোনো তারকা

বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে মারা যান নন্দিত অভিনেতা সালেহ আহমেদ। এরপর প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও তার মরদেহ দেখতে এদিন রাত আটটা পর্যন্ত দেখা যায়নি শোবিজ অঙ্গনের কোনো পরিচিত মুখ। যদিও এ নিয়ে অভিযোগ নেই তার পরিবারের। তবে দীর্ঘশ্বাস টের পাওয়া গেল ঠিকই! রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে বিকেল চারটার পর এই অভিনেতার মরদেহ তার উত্তরখান এলাকার বাসায় নেয়া হয়। এ সময় আত্মীয়-স্বজন অনেকে মরদেহ দেখতে এলেও দেখা মেলেনি অভিনয় সংশ্লিষ্ট কোনো শিল্পীর। সরেজমিনে এমনটাই দেখা গেছে।

সালেহ আহমেদের মামাতো ভাই অভিনেতা আহসানুল হক মিনু বলেন, মৃত্যুর সংবাদ পেয়েও সালেহ আহমেদকে হাসপাতালে কোনো শিল্পী দেখতে আসেননি। তবে জাহিদ হাসান, আহসান হাবিব নাসিম, আনিসুর রহমান মিলন, মীর সাব্বির, দিলারা জামান ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। তিনি বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে হয়তো শিল্পীরা তাকে দেখতে আসেননি। শুটিংয়ে ব্যস্ত আছেন অনেকে। কারো আসা বা না আসা নিয়ে আমাদের অভিযোগ নেই, তবে যে মানুষটা অভিনয়ে নিবেদিত প্রাণ ছিলেন অন্তত একবার হলেও তার মরদেহ দেখতে আসা উচিত ছিল।

সালেহ আহমেদের উত্তরখানের বাসায় মিনুর সঙ্গে আলাপকালে সন্ধ্যা ৭টার পর মরদেহ দেখতে আসেন প্রবীণ অভিনেতা কেএস ফিরোজ। তিনি বলেন, ‘অয়োময়’ নাটকে কাজের সময় ময়মনসিংহে শুটিংয়ের সময় সালেহ আহমেদের সাথে প্রথম পরিচয় হয়েছিল। তিনি দিলখোলা মজার মানুষ ছিলেন। সালেহ আহমেদের কন্যা সৈয়দা সুলতানা লিনা বলেন, তিনি যতদিন চেতন অবস্থায় ছিলেন অভিনয়ে ফিরতে চেয়েছিলেন। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন শুটিং স্পটে যেতে চাইতেন। বলতেন, অনেকের সাথে দেখা হবে।

আরও বলেন, তার মৃত্যুতে শিল্পীরা দেখা করতে না আসলেই বা কি আসে যায়। তার তুলনা তিনি নিজেই। তবে আশা করেছিলেন তার সহকর্মীরা একবার হলেও তার মরদেহ দেখতে আসবেন। ৮৪ বছর বয়সে মারা যান সালেহ আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে দেখা গেছে সালেহ আহমেদকে। প্রতিটি নাটকে তার উপস্থিতি হাস্যরস যোগাতো। অভিনয়ে স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা। ২০১১ সালে ব্রেন স্ট্রোকের পর তিনি ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে দূরে সরে যান।

অসুখ বিসুখে সালেহ আহমেদের জীবন হয় বিছানাবন্দি। সালেহ আহমেদের একমাত্র পুত্র সাব্বির আহমেদ বলেন, পাঁচ বছরের বেশি সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন। দীর্ঘদিন তাকে টিউবের মাধ্যমে খাওয়ানো হতো। ২২ এপ্রিল অবস্থা বেশি খারাপ হলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। আজ দুপুরে তিনি মারা যান। সালেহ আহমেদের স্ত্রী মুলসিমা আহমেদ বলেন, ২০১৫ সালে ১২ এপ্রিল বড়মেয়ে লিজা মারা যাওয়ার পর তিনি সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান। প্রায় মেয়ের কবরের কাছে ছুটে যেতেন, কাঁদতেন। মানসিকভাবে ওইসময় প্রচণ্ড ভেঙে পড়েন। তারপর থেকে তার শরীরে বিভিন্ন অসুখ বাঁধতে থাকে। সালেহ আহমেদের পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বুধবার বাদ এশা ফায়দাবাদ এলাকায় গণকরবস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

পাঠকের মতামত