বাধ্য হয়েই শপথ নিয়েছি : বিএনপি নেতাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে এমপি জাহিদ

শীর্ষ নেতাদের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে একাদশ সংসদে বিএনপির প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান জাহিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে তার দপ্তরে জাহিদুর রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান। এ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিব জাফর আহমেদ খান। শপথ নেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাহিদুর রহমান জাহিদ বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই শপথ নিতে বাধ্য হয়েছি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিয়েছি। দল আমাকে বহিষ্কার করতে পারে জেনেও আমি শপথ নিয়েছি। দল বহিষ্কার করলেও আমি দলে আছি।

জাহিদ জানান, এর আগেও তিনি তিনবার নির্বাচন করেছেন। চতুর্থবারে এসে নির্বাচিত হয়েছেন। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে এর আগে কখনও বিএনপি জয় পায়নি।বৃহস্পতিবার সকালে জাহিদুর রহমান শপথ নেওয়ার বিষয়ে তার আগ্রহের কথা জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দেন। স্পিকারের একান্ত সচিব এম এ কামাল বিল্লাহ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চিঠি পেয়ে সংসদ সচিবালয় আজ দুপুরে জাহিদুর রহমানের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান বলেন, জাহিদুর রহমান শপথ নেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে গেছেন বলে তারা শুনেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে দলের কাউকে কিছু জানাননি। তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী ৩০০ প্রার্থীর মধ্যে জাহিদকে নিয়ে মোট ২৯৫ জন এ পর্যন্ত শপথ নিয়েছেন। বিএনপি থেকে নির্বাচিত আর পাঁচজন এখনও শপথ নেওয়ার বাকি। এদিকে এমপি জাহিদুর শপথ গ্রহণ করায় স্থানীয় জেলা বিএনপির নেতারা দ্বিমত পোষণ করেছেন। অপরদিকে তিনি শপথ গ্রহণ করায় সাধুবাদ জানিয়েছেন নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ। তারা এলাকার উন্নয়নে এমপি জাহিদকে কাজ করার আহ্বান জানান। শপথ গ্রহণের বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, শপথ গ্রহণ করার আগে জাহিদুর ইসলাম জেলা কমিটিকে কোন লিখিত আবেদন করেননি। তিনি নিজ উদ্যেগে শপথ গ্রহণ করেছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির মধ্যেও ঠাকুরগাঁও-৩ আসন (পীরগঞ্জ-রানীশংকৈল) থেকে নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন জাহিদুর রহমান জাহিদ। রংপুর বিভাগের মধ্যে জাহিদুর রহমানই একমাত্র বিএনপির প্রার্থী, যিনি জয়ী হতে পেরেছেন। ১৯৯১ সাল থেকে জাহিদুর রহমান নির্বাচন করছেন। দীর্ঘ ২৭ বছর পর মানুষের সহানুভূতির কারণে তিনি জয়ী হয়েছেন। জাহিদুর রহমান (ধানের শীষ) ৮৮ হাজার ৫১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইমদাদুল হক। তিনি ৮৪ হাজার ৩৮৫ ভোট পান। এ ছাড়া মহাজোটের প্রার্থী মো. ইয়াসিন আলী (নৌকা) ৩৮ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজউদ্দিন আহম্মেদ (লাঙ্গল) ২৭ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মোট আটজন নির্বাচিত হন। তার মধ্যে বিএনপি থেকে ছয়জন ও গণফোরাম থেকে দুজন নির্বাচিত হন। গণফোরামের প্রার্থী হিসেবে সুলতান মনসুর ধানের শীষ প্রতীকে মৌলভীবাজার-২ আসনে নির্বাচিত হন। তিনি গত ৭ মার্চ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এদিন বিকেলেই সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। এখন তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগে ৭ মার্চ গণফোরাম থেকে সুলতান মনসুরকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য পদ থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খানও ২ এপ্রিল শপথ নেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ফল বর্জন এবং শপথ না নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি, তা এখনো বহাল আছে।

পাঠকের মতামত