সন্ত্রাসীদের ধরতে পাকিস্তানের সহায়তা চান শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী

ইস্টার সানডে হামলাকারীদের সন্ধান ও উৎখাত করতে দরকার হলে পাকিস্তানের সহায়তা নেব বলে জানিয়েছেন শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহে। ভারতীয় দৈনিক হিন্দুস্থান টাইমসে শুক্রবারে প্রকাশিত এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, অতীতে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তান তাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। তিনি বলেন, আমি দেখছি, এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের দেশগুলোর মধ্যে বিরাজ করা আস্থাকে আরও মজবুত করেছে। এতে আমাদের মধ্যে সহযোগিতাও বেড়েছে।

‘যদিও এই ঘটনায় বিদেশি যোগসাজশ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে শ্রীলংকা, কিন্তু বিশেষ কোনো দেশ হামলায় সহযোগিতা করেছে বলে প্রমাণ নেই। এ অঞ্চলের সব দেশই একই ধরনের হুমকির মোকাবেলা করছে। কখনো কখনো সবচেয়ে ভালো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও নিষ্ঠুর সন্ত্রাসীরা ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বব্যাপী এমন দুর্ঘটনা আমরা প্রায়ই দেখতে পাই,’ বললেন লংকান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের গোয়েন্দারা বিদেশি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছেন। এটা আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। সব অপরাধীদের বাগে আনতে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে কাজ করব আমরা।

শ্রীলংকায় মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এমন পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছিল। তখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোকে বেশ চাপে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের পর মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাবকে বাড়তে দেয়া হয়নি।
‘এর মধ্যে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটি ঘটেছে ক্যান্ডিতে। পরবর্তীতে যা পুরোপুরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এসব উসকানির মুখে তারা ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। আন্তঃধর্মীয় ঐক্য ধরে রাখায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হবে।’

রনিল বিক্রমমিংহে বলেন, কিন্তু ফের আমাদের অঞ্চল ও উদারনৈতিক বিশ্বে মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে। কাজেই তার কিছুটা প্রভাব শ্রীলংকায়ও পড়েছে। তবে অবশ্যই আমরা প্রতিটি সম্প্রদায়কে সহাবস্থানের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেব।

পাঠকের মতামত