সৌদিতে ৯৪ পাওয়া সেই মেধাবী শিক্ষার্থীরও শিরশ্ছেদ

চলতি সপ্তাহের শুরুতে যে ৩৭ জনের শিরশ্ছেদ করার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব, তাদের মধ্যে একজন ১৭ বছর বয়সী মুজতবা আল শওকত। ২০১২ সালের একদিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য বিমানে ওঠার কথা ছিল তাঁর। সে অনুসারে দাম্মাম বিমানবন্দরেও তিনি গিয়েছিলেন। হয়তো একটু পরে বিমানে ওঠে চলেও যেতেন। কিন্তু সৌদি আরবের পুলিশ তাকে সেখান থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে।
সাত বছর পর চলতি বছরে সন্ত্রাসী সেল গঠনের অভিযোগে শিরশ্ছেদ করা হয় তার।

সৌদি আদালতে বিচারের নথির বরাতে সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।তার বাবা নাদের আল শওকত আদালতে বলেন, মুজতবার বিরুদ্ধে পুরো মামলাটি সাজানো। সেখানে এমন কোনো সেল ছিল না। তিনি বলেন, মাত্র কয়েকজন সত্যিকার অপরাধ করার কথা স্বীকার করেছেন। এই গণবিচারে নিজের ছেলের আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন নাদের শওকত। তিনি বলেন, তার পরিবার খুবই দেশপ্রেমিক। এছাড়া তার ছেলে অধ্যবসায়ী ও মেধাবী। সৌদি আরবে তার প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষার চূড়ান্ত পর্বে গড়ে ৯৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছে সে।

কিন্তু কোনো কিছুই মুজতবাকে তার স্বপ্নের পথে ছুটতে দেয়নি। ২০১২ সালে আটক হওয়ার পর তাকে ৯০ দিন নির্জন কারাবাসে আটকে রাখা হয়।আদালতের নথি বলছে, মুজতবা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি মলোটভ ককটেল নিক্ষেপের কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া বিক্ষোভকারীদের জড়ো করতে ব্ল্যাকবেরি ফোনে তিনি একটি চ্যাট গ্রুপ খুলেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

কিন্তু তার বাবা বলেন, তার ছেলে মাত্র দুবার বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। প্রতিবার সে কেবল পাঁচ মিনিট করে সেখানে ছিল।বিচারের নথিতে দেখা যায়, শওকতের বাবা বলছেন, তার ছেলে ব্যাপক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এতে সে দুর্বল হয়ে পড়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়েছে। জবরদস্তিমূলক তার সই নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এতে সই না দিলে তার ওপর নির্যাতন বন্ধ হবে না। এ জন্যই সে সই দিয়েছে।তবে এসব কিছুই তাকে রক্ষা করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত মুজতবাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয় দেশটির আদালত।২০১৬ সালে করা ২৫ জনের তিনটি বিচারের কয়েকশ পাতার নথি হাতে পেয়েছে সিএনএন। চলতি সপ্তাহে তাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে ইরানের হয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে।

আর ১৪ জনের বিরুদ্ধে অপরাধ হচ্ছে, তারা ২০১১ ও ২০১২ সালে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ শহর আল আওয়ামিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ‘সন্ত্রাস সেল’ গঠন করেছেন বলে অভিযোগ বলা হয়েছে।শিরশ্ছেদ হওয়া অধিকাংশেই দেশটির সবচেয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী শিয়া সম্প্রদায়ের লোক।সৌদি কর্তৃপক্ষ ন্যায়বিচার সম্পন্ন হওয়ার দাবি করলেও নথিতে দেখা গেছে, অপরাধে জড়িত হওয়ার স্বীকারোক্তি দূরের কথা আদালতে তারা বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা। নির্যাতন করে এসব আদায় করা হয়েছে।

পাঠকের মতামত