যে কারনে বিবাহিত বুড়ো সাইফেকে বিয়ে করেছিলেন কারিনা

জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর। অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তবে ক্যারিয়ারের মন্দ সময়ও পার করেছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবারো ফিরে এসেছেন, পেয়েছেন দর্শকের ভালোবাসা। ব্যক্তি জীবনে অভিনেতা সাইফ আলী খানকে বিয়ে করেন কারিনা। এ নিয়েও কম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি তাকে। ছেলে তৈমুরের জন্মের পর সংসার ও ক্যারিয়ার দুটোই সমান তালে সামলে চলেছে এ অভিনেত্রী। সম্প্রতি হিউম্যানস অব বোম্বে’র ইনস্টাগ্রাম পেজে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন কারিনা। এতে ক্যারিয়ারের শুরু, সাইফের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি, মা হওয়াসহ নানা বিষয়ে লিখেছেন তিনি।

কারিনা লেখেন, “আমি যখন বোর্ডিং স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরি কারিশমা তখন অভিনয় শুরু করেছে। দিল তো পাগল হ্যায় সিনেমায় তার অভিনয়ের কথা মনে আছে, অনেক আকর্ষণীয় ছিল— আমি তাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। সবকিছুর মাধ্যমে সে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। তাকে দেখে আমার মধ্যেও অভিনয়ের ইচ্ছা তৈরি হয়। যখন আমার সময় এলো— সে আমাকে শিখিয়েছিল নারী হওয়ার ফলে কীভাবে ইন্ডাস্ট্রিতে কষ্ট করে টিকে থাকতে হয়।

শুরুটা ভালোভাবেই হয়েছিল— আমি কয়েকটি অসাধারণ সিনেমায় অভিনয় করি। কিন্তু তারপর আমি প্রায় এক বছর কোনো কাজ করিনি। মনে হয়েছিল আমার ক্যারিয়ার শেষ। আমাকে বলা হয়েছিল ‘নতুনভাবে’ নিজেকে তৈরি করতে, জিরো সাইজ হতে। সবাইকেই ক্যারিয়ারে খারাপ সময় পার করতে হয়। কিন্তু যখন অনেকের নজর আপনার দিকে থাকবে একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে এটি খুবই কষ্টের।

আমার সৌভাগ্য যে, জীবনে সবসময়ই কিছু মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি। আর যখনই আমার মনে হচ্ছিল— আমার পতন হচ্ছে, তখন সাইফ আমাকে আকড়ে ধরে। তার সঙ্গে আমার আগেই পরিচয় হয়েছিল কিন্তু যখন তাশান সিনেমার শুটিং করছিলাম, সবকিছু পরিবর্তন হয়ে যায়। হৃদয় আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। তিনি অনেক আকর্ষণীয় ছিল যে, আমি সম্পূর্ণ তার প্রেমে পড়ে যাই।

আমার মনে আছে, যখন লাদাখ ও জয়সালমারে শুটিং করছিলাম, তখন আমরা মোটর বাইকে লং ড্রাইভে যেতাম ও একাকি সময় কাটাতাম। আমরা প্রকৃতি দেখতাম, গল্প করতাম ও আমাদের সম্পর্ক দৃঢ় হতো। সে আমার চেয়ে ১০ বছরের বড় এবং তার দুটি সন্তান আছে। কিন্তু আমার কাছে, সে শুধুই সাইফ— সে আমাকে সেরে উঠতে ও নিজেকে ভালোবাসতে সাহায্য করেছে। সম্ভবত এটা সত্য যে, আমরা দুজন সম্পূর্ণ আলাদা— সে অনেক আত্মকেন্দ্রিক ও বলিউডি টাইপ নয় কিন্তু এই বিষয়টিই আমাকে আকর্ষণ করে। আমি সব বিষয় নিজের ওপর প্রভাব ফেলতে দিই না এবং ভারসাম্য করতে শিখি।

আমরা কিছুদিন ডেটিং করি এবং যখন সে জানায়, তার বয়স ২৫ বছর নয় এবং প্রতিদিন আমাকে বাড়িতে নামিয়ে দিতে পারবে না। সে আমার মাকে বলে, ‘আমি বাকি জীবন তার (কারিনা) সঙ্গে কাটাতে চাই। আমরা একসঙ্গে থাকতে চাই।’ আমার মা বিষয়টি ভালোভাবেই মেনে নেয়। এটি তার জন্য খুবই সহজ। এমনকি যখন আমরা বিয়ে করি তখন মনে হয়েছে এটি সঠিক সিদ্ধান্ত। এর কয়েক বছর পরেই আমার ছেলে তৈমুরের জন্ম হয়। মা হওয়াটা আমার জীবনের সেরা বিষয়গুলোর একটি। তৈমুর আমার অংশ— তাকে ছাড়া একটি ঘণ্টাও কাটানো সম্ভব নয়। আমি যেখানেই থাকি সে আমার সঙ্গে থাকে। সে আমাকে প্রতিদিন আরো কঠোর পরিশ্রম করার উৎসাহ দেয়।

আমি জীবনের এমন এক পর্যায়ে রয়েছি যেখানে পরিবার ও ক্যারিয়ারের মধ্যে বাছাবাছি করতে হয় না। আমি দুটোই করি। আমি একজন অভিনয়শিল্পী তবে এই উত্থান-পতনের মধ্যেও আমি একজন বোন, স্ত্রী ও মা ছিলাম এবং এই কর্তব্যগুলোর কোনোটিই আমাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং, আমাকে সঠিক পথে রেখেছে। আমার স্বপ্ন আরো বড় হয়েছে এবং আরো অনেক কিছু অর্জন করতে হবে। একজন অভিনয়শিল্পী ও নারী হিসেবে।”

পাঠকের মতামত