কুমিল্লার স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে!

কুমিল্লা মহানগরীর স্কুল গুলোতে গড়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর কিশোর গ্রুপ। এসব কিশোর গ্রুপ জড়িয়ে পড়েছে নানা অপরাধে। এক গ্রুপের সাথে অন্য গ্রুপের সদস্যদের কথা কাটাকাটি হলেই ছুরিকাঘাত থেকে শুরু করে ঘটছে খুনের ঘটনা। কয়েকদিন আগে পবিত্র শবে বরাতের রাতে কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোমতাহিন ইসলাম মিরনকে (১৪) তার ক্লাসের শিক্ষার্থীরা কথাকাটাকাটির জের ধরে ছুরিকাঘাত করলে তার মৃত্যু হয়।

এর পর গত ১৬ এপ্রিল কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুলের এক শিক্ষার্থীর ছুরিকাঘাতে আহত হয় কুমিল্লা জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী মারুফ। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় সহপাঠীরা। গত ২০১৮ সালের ১১ জুলাই অজিতগুহ কলেজের শিক্ষার্থী অন্তুকে (১৮) প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নগরীর ধর্মসাগরপাড়ে খুন করে তার সহপাঠীরা। কুমিল্লা নগরীর জিলা স্কুল-মডার্ণ হাই স্কুল,কালেক্টরেট স্কুল, ভিক্টোরিয়া কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় কিশোর ও উঠতি যুবকদের অন্তত দশটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। কিশোর গ্রুপগুলোর নাম সেভেন স্টার, ব্লেড, নাইন স্টার, জিরো জিরো সেভেন, নাইট কিলার, কুমিল্লার পোলাপাইন।

কুমিল্লা মহানগরীতে সন্ধ্যা হলেই নগরীর অলিগলির মোড়ে, চায়ের দোকানে, কান্দিরপাড়ের টাউনহলে, ধর্মসাগরপাড়ে, রেইসকোর্স ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজার সামনে ও আশেপাশে টং দোকানে, চকবাজারের সিনেমা হলের পাশে, শাসনগাছা বাস স্ট্যান্ডের উত্তরপাশে গলিতে, রেলওয়ে স্টেশনে, ধর্মপুর ভিক্টোরিয়া কলেজের সামনে, কান্দিরপাড়র লিবার্টি মোড়ের চায়ের দোকানে, কালিয়াজুড়ি, বিষ্ণপুর পানির ট্যাংকির পাশে, ছোটরা নির্বাচন অফিসের পশ্চিমপাশের মাঠে, কাপ্তানবাজার পাক্কার মাথা, পুরাতন গোমতী নদী সংলগ্ন হারুন স্কুল, মোগলটুলী থেকে ইসলামপুর সড়কের বিভিন্নস্থানসহ আরো বেশ কয়েকটি স্থানে সন্ধ্যা হলেই স্কুল কলেজ পড়ুয়াদের আড্ডা বসে।

আবার এসব আড্ডায় এসে যোগ দেয় চিহ্নিত বখাটেরা। যাদের হাত ধরে স্কুল কলেজ পড়ুয়াদের যত সব অপকর্মের সূচনা হয়।
ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আমীর আলী, কুমিল্লা প্রেসকাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক আবুল হাসানাত বাবুল এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কিশোর অপরাধ হ্রাস করতে হলে প্রতিটি পরিবারের অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। সন্তান কার সাথে মেশে, সন্ধ্যার পর কোথায় যায়, রাত জেগে লেখাপড়া করে কি না এসব বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতে হবে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন জানান, এখন থেকে সন্ধ্যার পরে যেন অলিগলির মোড়ে কিশোররা আড্ডা না দিতে পারে সে বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

পাঠকের মতামত