শ্রীলঙ্কায় হামলার পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ ভারত থেকে নেয়া হয়

শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডেতে সিরিজ বোমা হামলার পর শ্রীলঙ্কার তদন্ত কর্মকর্তারা ন্যাশনাল তাওহীদ জামায়াতের নেতা জাহরান হাশিমকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে, দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা চালানোর আগে দীর্ঘদিন ভারতের তামিলনাড়ুতে সময় কাটিয়েছেন হাশিম। শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। জানা যায়, যে ব্যক্তি আত্মঘাতী হামলাকারীদের মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলেন, তাকে জাহরান হাশিম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ওই ছবিতে অন্যদের মুখ ঢাকা অবস্থায় অস্ত্র হাতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে বলেন, আইএসের যোগসাজসের ব্যাপারে আমরা তদন্ত করছি। তবে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে যে, হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকতে পারে, সেটা তামিলনাড়ুতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে হাশিমের ভারত সফরের ব্যাপারে নয়াদ্ল্লির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মন্তব্য করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রমাণাদি বলছে, তিনি ভারতের তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকতে পারেন।

ইতিমধ্যেই হাশিমের ফেসবুক পেজের শতাধিক অনুসারীর ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে ভারতে সাতজন তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা হাশিমের অনুসারী। যদিও আত্মঘাতী হামলাকারী ৯ জনের নাম এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালি ঘোষণা করেনি শ্রীলঙ্কা।

গত শুক্রবার জানানো হয়, যে দুইজন আত্মঘাতী হামলাকারী হোটেল শাংরি লা’তে হামলা চালায়, হাশিম তাদের একজন। আগে থেকেই তিনি উগ্রপন্থী ছিলেন বলেও জানানো হয়। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে স্থানীয়রা দ্য হিন্দুকে বলেন, দুই বছর আগে নিজ শহর ছেড়ে চলে যান হাশিম। তার পর থেকে তাকে আর দেখেনি এলাকাবাসী।

এদিকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, হামলার আগে তারাই শ্রীলঙ্কার গোয়েন্দা সংস্থাকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেছিল। উল্লেখ্য, গত রবিবার ওই হামলার ঘটনায় ২৫৩ জন নিহত হয়। যাদের মধ্যে ৪৫ জন শিশু এবং ৪০ জন বিদেশি নাগরিক। হামলার দুইদিন পর নানা নাটকীয়তার পর দায় স্বীকার করে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। সেই সঙ্গে বোমা হামলাকারীদের ছবিও প্রকাশ করে আইএস।

পাঠকের মতামত