১০ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত দুই শতাধিক ঘরবাড়ি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১০ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে উপজেলার পতনউষার, শমশেরনগর, মুন্সিবাজার ও পৌরসভা এলাকায় দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। রবিবার দুপুরে এ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়েছে। গাছ ভেঙে বিদ্যুতের খুঁটি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, কমলগঞ্জ-কুলাউড়া সড়কে শমশেরনগর এয়ারপোর্ট রোডে ব্যাপক গাছপালা ভেঙে পড়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া লাউয়াছড়া পাহাড়ে রেল লাইনের ওপর গাছ পড়ায় রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস ও সিলেটগামী আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া স্টেশনে আটকা পড়েছে। বিদ্যুৎ লাইন লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার করণে বিদ্যুৎহীন রয়েছে পুরো কমলগঞ্জ। স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড়ে পতনউষার ইউনিয়নের পতনউষার, শ্রীরামপুর, চন্দ্রপুর, ধোপাটিলা, রসুলপুর, বৃন্দাবনপুর, দক্ষিণপল্কীসহ ১০টি গ্রামের বাড়িঘর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে। পতনউষারের বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের ১১ কেভি লাইন ছিঁড়ে পড়েছে। পতনউষার গ্রামের আলাল মিয়া, দক্ষিণপল্কী গ্রামের আগুরী বিবিরসহ প্রায় ২০টি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।

অপরদিকে, একই সময় শমশেরনগর, মুন্সিবাজার ও কমলগঞ্জ পৌরসভায় ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। কমলগঞ্জ আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজের আধাপাকা একাডেমিক ভবনের টিন ছাউনিসহ পৌরসভার ৫, ১, ২ নং ওয়ার্ডের ঘরের অনেক বাড়ির টিন উড়ে গেছে। কয়েক শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। পতনউষার ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নারায়ণ মল্লিক সাগর বলেন, আমার ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রীমঙ্গল জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে রেললাইনে গাছপালা ভেঙে পড়েছে। তাই ট্রেন আটকা পড়েছে। কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোবারক হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় শতাধিক স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে একদিন সময় লাগবে। কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমর্কতা মো. আছাদুজ্জামান বলেন, সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভেঙে পড়া ঘরবাড়ির তালিকা দেয়ার জন্য চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।

পাঠকের মতামত