সংসদে প্রধানমন্ত্রী: নুসরাত সাহসী মেয়ে, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নুসরাতকে হত্যার আগে যৌন নিপীড়নের মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়া হয়। মামলা তুলে না নেয়ায় নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। তবে নুসরাত সাহসী মেয়ে, তাই সে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি। সোমবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংসদে নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকায় জঙ্গি হামলা, ফেনীর নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যাসহ সন্ত্রাস, যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব সংসদ, সরকার ও নাগরিকদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনা জানার পর আমি ব্যবস্থা নেই। এমনকি আমার দলের লোকও এই ঘটনায় জড়িত। তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

একজন শিক্ষক পিতার সমতুল্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষক পিতার সমতুল্য। তার ওপরে তিনি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। রক্ষক হয়ে তিনি ভক্ষকের কাজ করেছেন। কেউ যদি অন্যায় করে , দলমত দেখব না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজিল্যান্ডে ও শ্রীলংকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ভাগ্যক্রমে একজন নারীর জন্য আমাদের পুরো ক্রিকেট টিম বেঁচে যায়। শ্রীলংকায় বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে শিশু জায়ান মারা গেল। জায়ানের বাবা এ ঘটনায় আহত হয়ে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া এই ঘটনায় ৫০০ জনের মতো মানুষ নিহত হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে ঈদের জামাতে শোলাকিয়ায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। কোনো মুসলমান কখনো ঈদের জামাতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটাতে পারে না। তবে আমাদের র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী সতর্ক থাকায় ওই দিন বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।এ সময় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার কথা তুলে ধরেন।

পাঠকের মতামত