এবার আলোচনায় এমপি রুস্তমের স্টিকার

ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মৌখিক অবস্থান নয়। একেবারে নিজের নাম, পরিচয়, মোবাইল নম্বর ও ছবি দিয়ে স্টিকার ছাপিয়েছেন পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। নিজের নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন দফতর, পথে-ঘাটে সাঁটিয়ে দিয়েছেন ‘সরকারি যেকোনও কাজের জন্য ঘুষ দেওয়া নেওয়া চলবে না’— লেখা সংবলিত এই স্টিকার। চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এই ঘোষণা দেয়ায় আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি।

এমপি ফরাজীর এই উদ্যোগকে কীভাবে দেখেন জানতে চাইলে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূর হোসাইন মোল্লা বলেন, মঠবাড়িয়ার ঘুষ দুর্নীতি বেশি। সেটেলমেন্ট অফিসে টাকা দিয়ে আপনি আমার জমি আপনার নামে রেকর্ড করাতে পারবেন। এমপি ফরাজী ঘুষ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তাকে আমরা স্বাগত জানাই।

১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। এরপর তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন।

স্টিকারের বিষয়ে জানতে চাইলে মহাজোট থেকে নির্বাচিত জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, আমি জনতার কাছে দুর্নীতি না করার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এবারই আমার শেষ নির্বাচন। সবার টাকা লাগে নির্বাচন করতে, আমার লাগে না। দুটো ডাল-ভাত খেয়ে যেতে পারলে হয়। সুনাম ও সততা রক্ষা করে যেতে পারলে হয়।

তিনি জানান, বুধবার উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আমাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনাকালে আমি তাদের দুর্নীতি না করার বিষয়ে শপথ করিয়েছি। এ সময় তাদের বলেছি, যারা দুর্নীতির আশ্রয় নেবেন তারা এখান থেকে ৩০ জানুয়ারির মধ্যে স্বেচ্ছায় চলে যাবেন। কারও বিরুদ্ধে আমার যেন ডিও লেটার দেওয়া না লাগে। স্টিকারে আমি আমার মোবাইল ফোন নম্বর দিয়েছি। প্রয়োজন হলে লোকজন আমার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন ।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জি এম সরফরাজ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিবিরোধী যে ঘোষণা দিয়েছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সেই প্রচারণা চালাচ্ছেন। নিঃসন্দেহে উদ্যোগটি ভালো। এ বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা থাকবে।

পাঠকের মতামত