ডাকাতি করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পুলিশের এসআই

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ডাকাতি চেষ্টার অভিযোগে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল কদ্দুছসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের গেড়ামারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ২টার দিকে সাদা পোশাকে মির্জাপুর থানা পুলিশের এসআই সোহেল কদ্দুছের নেতৃত্বে ৭/৮ জন যুবক বহুরিয়া ইউনিয়নের গেড়ামারা গ্রামের আলমাছ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দরজায় আঘাত করে। আলমাছ দরজা না খুলে তাদের পরিচয় জানতে চান।

বাহির থেকে তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে একাধিকবার দরজা খুলতে বলেন। এতে আলমাছের সন্দেহ হলে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করেন। চিৎকার শুনে গ্রামের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের আটক করেন। এ সময় সেখান থেকে দুই যুবক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে রাত ৪টার দিকে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

আলমাছ মিয়া জানান, তিনি সাড়ে পাঁচ মাস আগে সিঙ্গাপুর থেকে বাড়িতে এসেছেন। গভীর রাতে পুলিশ পরিচয়ে দরজায় আঘাত করার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পুলিশ পরিচয় দিলেও তাদের কথাবার্তায় সন্দেহ হয়। পরে তিনিসহ পরিবারের লোকজন চিৎকার করলে গ্রামবাসী এসে তাদের আটক করেন।

এসআই সোহেল কদ্দুছ ছাড়াও আটকরা হলেন- রংপুরের শহিদুর রহমান ও সাইদুল ইসলাম, মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কোর্ট বহুরিয়া গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন, গোড়াই ইউনিয়নের মীর দেওহাটা গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ মিয়া। পালিয়ে যাওয়া দুই যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক বলেন, এ ঘটনায় এসআই সোহেল কদ্দুছের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাছাড়া পালিয়ে যাওয়াদের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাঠকের মতামত