সিঙ্গাপুরের বৈঠকে তারেককে ৩ প্রস্তাব ড. কামালের

জামায়াত নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের অচলাবস্থা কাটাতে সিঙ্গাপুর গেছেন ড. কামাল হোসেন। গতরাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে তিনি দেশ ছাড়েন। এক সপ্তাহ ড. কামাল হোসেন সিঙ্গাপুরে অবস্থান করবেন।

যদিও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরীক গণফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যই তিনি সিঙ্গাপুরে গেছেন। কিন্তু একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে সৃষ্ট টানাপোড়েন মেটাতেই তিনি সিঙ্গাপুরে গেছেন। সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। সিঙ্গাপুরে তারেক জিয়ার এই প্রতিনিধিরাই বিভিন্ন বিষয়ে দরকষাকষি করেন। সেখানে তারেকও স্কাইপে তাদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হন।

বাংলাদেশে এসব আলাপ-আলোচনা ফাঁস হয়ে যায় জন্যই ড. কামাল হোসেনকে সিঙ্গাপুরে উড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, ফলপ্রসূ আলোচনা না হলে সিঙ্গাপুর থেকে লন্ডনেও যেতে পারেন ড. কামাল হোসেন।

বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, তারেক জিয়া এখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং জামাত কোনোটাই ছাড়তে চান না। আন্তর্জাতিক লবিং এবং প্রভাবশালী দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের জন্য তার যেমন ড. কামাল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রয়োজন, তেমনি বাংলাদেশের রাজনীতির মেরুকরণের জন্যও তার ২০ দল এবং জামাতকে প্রয়োজন। যদিও জেল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়া জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রয়োজনে বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট ছাড়বে কিন্তু জামাত নয়। কিন্তু তারেক জিয়া, দুই জোটই অটুট রাখার পক্ষে। জামাতকে আড়ালে রেখে কিভাবে দুই জোট অটুট রাখা যায় সে বিষয়ে আলোচনার জন্যই ড. কামাল হোসেনকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বিএনপিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে ড. কামাল হোসেন তিন দফা প্রস্তাব নিয়ে সিঙ্গাপুরে গেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এখানে তারেক জিয়ার বিশ্বস্ত প্রতিনিধিদের কাছে ড. কামাল এই তিন দফা প্রস্তাবনার যৌক্তিকতা তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।

এই তিন দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে; ১. আপাতত কিছুদিনের জন্য রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাবেন তারেক জিয়া। বিএনপির মধ্যে থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হবে। ২. জামাতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ত্যাগের ঘোষণা দেবে বিএনপি। ৩. ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ড: কামাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ‘এই মুহূর্তে কোনো রকমের আন্দোলন সংগ্রামের পক্ষে নন ড: কামাল হোসেন বরং নিজেদের আগে ‘উপযুক্ত’ করার পক্ষে। ড. কামাল হোসেনের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, ‘তিনি মনে করে যে, বিএনপি যেহেতু ঐক্যফ্রন্টের প্রধান দল, যেহেতু বিএনপির ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে তাই আগে বিএনপির শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন। বিএনপিকে আন্তর্জাতিক ‘গ্রহণযোগ্যতা’ তৈরী করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ড. কামাল এটাও বলেছেন, ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আস্থাভাজন না হলে, দেশে আন্দোলন সংগ্রাম করে লাভ নেই।

জানা গেছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই তিনদফা প্রস্তাবে সায় আছে। কিন্তু দলের অধিকাংশ শীর্ষ নেতারা এই প্রস্তাবকে আরেকটি ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছেন। এদের কেউ কেউ মনে করছেন ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন বিএনপিকে অর্ধেক মৃত করেছে আর এই তিন সুপারিশ গ্রহণ করা হলে সংগঠন হিসেবে বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যাবে।

পাঠকের মতামত