হার্দিক-রাহুল ‘নিষ্পাপ’ মন্তব্য করেছে : অ্যালান বোর্ডার

টিভি শোতে বেঁফাস মন্তব্য করে অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাসনে থাকা ভারতের দুই তারকা ক্রিকেটার হার্দিক পাণ্ডিয়া এবং লোকেশ রাহুলের পক্ষে মুখ খুলেছেন অজি কিংবদন্তি অ্যালান বোর্ডার। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই ক্রিকেটারের নির্বাসনের সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। তার মতে, হার্দিক-রাহুলের মন্তব্য সঠিক না হলেও ‘নিষ্পাপ’ ছিল। তাদের এই পরিণতির জন্য খারাপও লাগছে বোর্ডারের।

‘কফি উইথ করণ’ টিভি শোতে নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের জন্য এখন নির্বাসিত রয়েছেন দুই ক্রিকেটার। দুজনকেই অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে দেশে। দুই বার শোকজ করা হয়েছে। দুজনেই একাধিকবার ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু ক্ষমা তো দূরের কথা, তাদের ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার পক্ষে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একটি অংশ! এখনও তদন্ত চলছে ঘটনার। তবে সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে। কারণ প্রশাসকদের কমিটি বা সিওএ ওম্বাডসম্যান চেয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে এই সপ্তাহে যার শুনানি হবে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হার্দিক-রাহুলের মন্তব্য নিয়ে সরগরম থেকেছে ক্রিকেটাঙ্গণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল সমালোচিত হয়েছেন দুই ক্রিকেটার। এবার এই ইস্যুতে মুখ খুললেন বোর্ডার। তার মতে, ‘আমার তো মনে হয়েছে ওরা নিষ্পাপ মন্তব্য করেছে। ওই এপিসোড আমি দেখিনি। তবে তা নিয়ে রিপোর্ট পড়েছি। ওদের বক্তব্য যথাযথ নয় ঠিকই। কিন্তু তার পরও নির্বাসন দেওয়া খুব বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে।

এই শাস্তির পেছনে সোশ্যাল সাইট ইউজারদের ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করে এই কিংবদন্তি আরও বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে পরিস্থিতি অনেক সময়ই হাতের বাইরে চলে যায়। ওই দুই ক্রিকেটারের জন্য তাই খারাপ লাগছে। ওরা একটা কঠিন শিক্ষা পেল এই ঘটনা থেকে।’

তরুণ ক্রিকেটারদের মিডিয়ার সঙ্গে আচরণের ব্যাপারে ট্রেনিং দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন বোর্ডার, ‘এই সময়ে ক্রিকেটারদের মিডিয়া নিয়ে ট্রেনিং দিতেই হবে। কারণ সামান্য বিষয়ও এখন ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় করে ফেলা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় যা চলছে, তা যে সবসময় ১০০ শতাংশ ঠিক, এমন মোটেই নয়। তরুণ অ্যাথল্যাটদের এটা মাথায় রাখতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনই নেতিবাচক দিক। আমার মনে হয় এই ঘটনা থেকে ওরা শিক্ষা পেয়েছে।’

পাঠকের মতামত