পদ্মা সেতুর ষষ্ঠ স্প্যান বসছে বুধবার

পদ্মা সেতুর ষষ্ঠ স্প্যান বসছে আগামীকাল বুধবার। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় ভাসমান ‘তিয়ান-ই’ ক্রেনে করে স্প্যানটি মুন্সীগঞ্জের মাওয়া থেকে জাজিরা প্রান্তে নেয়া হচ্ছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর জানান, সব ঠিকমতো হলে আগামীকাল বুধবার স্প্যানটি বসানো হবে।

৪১ স্প্যানের মধ্যে ইতিমধ্যে পাঁচটি বসানো হয়েছে। ষষ্ঠ স্প্যান বসলে পদ্মা সেতুর কাজ আরও দৃশ্যমান হবে বলে মনে করছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

এদিকে পদ্মা সেতুর ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ দুটি পিলার নিয়ে জটিলতায় পড়তে হয়েছিল কর্তৃপক্ষকে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিটি ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের পাঁচটি স্প্যান বসে যাওয়ায় পদ্মা সেতুর ৭৫০ মিটার অংশ এখন দৃশ্যমান।

ফেব্রুয়ারিতে আরও একটি স্প্যান বসানো হতে পারে। ষষ্ঠ স্প্যানটি বসানো হবে সেতুর ৩৭ ও ৩৬ নম্বর পিলারের ওপর। আর সপ্তম স্প্যানটি ৩৬ ও ৩৫ পিলার দুটির মাঝে বসানো হবে।

পুরো সেতুতে পিলারের সংখ্যা ৪২। একটি থেকে আরেকটি পিলারের দূরত্ব ১৫০ মিটার। ৪২ খুঁটির ওপর ৪১টি স্প্যান বসানো হবে।

স্প্যানের অংশগুলো চীনে তৈরি করে সমুদ্রপথে জাহাজে করে আনা হয় বাংলাদেশে। ফিটিং করা হয় মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে। প্রতিটি পিলারে পাইলের সংখ্যা ছয়।

সব মিলিয়ে ২৪০টি পাইল বসানোর কথা ছিল। ইস্পাতের এসব পাইল মাটির নিচে ৯৬ থেকে ১২৮ মিটার পর্যন্ত গভীরে বসানোর কথা।

২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর ৬ নম্বর পিলারের পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়। এরপর ৭ ও ৬ নম্বর পিলারে তিনটি করে মোট ছয়টি পাইলের বটম সেকশনের কাজ করা হয়।

কিন্তু এসব পাইল বসাতে গিয়ে নদীর তলদেশে নরম মাটির স্তর পাওয়া যায়। তখন দুটি পিলারের ছয়টি পাইলের টপ সেকশনের কাজ বন্ধ রাখা হয়।

মাওয়াপ্রান্তে কাজ বন্ধ রেখে জাজিরাপ্রান্তে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হয়। পরে আরও ১২টি পিলারের পাইল বসানোর সময় মাটির স্তরে কাদামাটি পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ অনুযায়ী, সেতুর ১৪টি পিলারের মধ্যে পাইলের সংখ্যা একটি করে বাড়ানো হয়। অন্যদিকে এসব পিলারে খাঁজ কাটা পাইল বসিয়ে বিশেষ ধরনের সিমেন্টের মিশ্রণে নরম মাটি শক্ত করা হয়।

কিন্তু ৬ ও ৭ নম্বর পিলারে আগে থেকে ছয়টি পাইল বসে যাওয়ায় চিন্তায় পড়েন বিশেষজ্ঞরা। এসব পাইল তুলে নতুন করে পাইল বসানোর কথাও ভাবা হয়। শেষ পর্যন্ত আগে থেকে বসে যাওয়া পাইলগুলো রেখেই ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের নকশা চূড়ান্ত করা হয়।

পাঠকের মতামত