লোকালয়ে আসা সেই ‘নীলগাইয়ের’ চিকিৎসা চলছে

দলছুট হয়ে ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের লোকালয়ে চলে আসা বনগরু ‘নীলগাই’ অস্থিরতা বোধ ও লাফালাফি করছে।

বিলুপ্ত এ পশুটিকে বুধবার সকালে পাকা কলা, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি খেতে দেয়া হয়। তবে নীলগাই কিছুই খাচ্ছে না। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

নওগাঁর মান্দা উপজেলা থেকে উদ্ধার করা বিলুপ্তপ্রায় নীলগাইটিকে মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজশাহী বন্যপ্রাণী ও পরিচর্যা কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। পরিচর্যা কেন্দ্রের ভেতরের প্রাকৃতিক পরিবেশেই তাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বনগরুটিকে সুস্থ করে তুলতে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বেশ কয়েকটি ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে ২-৩ দিনের মধ্যেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে বলে জানান রাজশাহী চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ফরহাদ উদ্দিন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে নীলগাইটি পরিচর্যা কেন্দ্রের ভেতরে নেয়া হয়। বর্তমানে পশুটির চিকিৎসা চলছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নুরুল্যাবাদ ইউনিয়নের জোতবাজার থেকে বনগরুটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জোতবাজার গ্রামের পাশে বনগরু ঘোরাঘুরি করছিল। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক গরুটি আটক করে বাজারে বেঁধে রাখেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয় এবং প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করা হয়। আটকের পর গরুটি অস্থিরতা বোধ ও লাফালাফি করছিল। বনগরুটি একনজর দেখতে শত শত নারী-পুরুষ ভিড় করেন।

স্থানীয় আমিনুল ইসলাম বলেন, সকালে বাজারের পাশে পশুটি ঘোরাঘুরি করছিল। পরে কয়েকজন অপরিচিত এ পশুটি আটক করে বেঁধে রাখেন। বিশেষ করে এ পশুটি ডিসকভারি চ্যানেলে দেখা যায়। সম্ভব এটি বনগরু।

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, দলছুট হয়ে ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পথ ভুলে বাংলাদেশের লোকালয়ে চলে আসে বনগরুটি। বিলুপ্ত এ পশুটি নীলগাই। পশুটির চিকিৎসার প্রয়োজন।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, প্রাণীটি উদ্ধার করে উপজেলায় আনা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল থেকে একটি নীলগাই উদ্ধার করা হয়। তাকে দিনাজপুর রামসাগর জাতীয় উদ্যানে রাখা হয়েছে। এবার মান্দায় আরও একটি নীলগাই উদ্ধার হয়েছে।

বাংলাদেশে এ প্রাণীটি বিরল। বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাণীর সংখ্যা বাংলাদেশে এখন দুটিতে দাঁড়াল। আর সৌভাগ্যক্রমে এবারের প্রাণীটি পুরুষ। এরা দুজনই প্রাপ্ত বয়স্ক। তাই তাদের একসঙ্গে রাখা হলে স্বাভাবিক নিয়মেই বংশ বিস্তার করবে। ফলে বিলুপ্তপ্রায় এই বণ্যপ্রাণীটির সংখ্যা আবারও বাড়ানো যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাঠকের মতামত