‘রিমেম্বারিং’ হলো আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রিয়জন, বন্ধু আর অগণিত সাধারণ মানুষের ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরবিদায় নিলেন কালজয়ী সুরস্রষ্টা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

গতকাল বুধবার বাদ মাগরিব মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে।

এরপর তার ফেসবুক আইডি ‘রিমেম্বারিং’ করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার ভোররাতে রাজধানীর আফতাবনগরে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

সংগীত জগতে দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ার ছিল আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের।
এ সময়ে দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি।

সত্তরের দশকের শেষ সময় থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চলচ্চিত্র শিল্পসহ সংগীতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পদক ও রাষ্ট্রীয় পদকসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এ বরেণ্য সুরকার।

তিনি চলচ্চিত্র সংগীত পরিচালনায় আসেন ১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলী বাদল’ সিনেমা দিয়ে।

১৯৮৪ সালে নয়নের আলো চলচ্চিত্রের সংগীতায়োজন করেন বুলবুল।

ওই সিনেমার জন্য লেখা তার বেশ কয়েকটি গান তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। সেগুলো হচ্ছে- ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বাবার মুখে’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’, ‘আমি তোমার দুটি চোখের দুটি তারা হয়ে’।

এর পরের ৪০ বছরে মরণের পরে, আম্মাজান, প্রেমের তাজমহল, অন্ধ প্রেম, রাঙ্গাবউ, প্রাণের চেয়ে প্রিয়, পড়ে না চোখের পলক, তোমাকে চাই, লাভ স্টোরি, ভুলোনা আমায়, আজ গায়েহলুদ, লাভ ইন থাইল্যান্ড, আন্দোলন, মন মানে না, জীবন ধারা, সাথী তুমি কার, হুলিয়া, অবুঝ দুটি মন, লক্ষ্মীর সংসার, মাতৃভূমি, মাটির ঠিকানাসহ দুশ শতাধিক চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেন বুলবুল।

তবে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালকের জাতীয় পুরস্কার পান ২০০১ সালে এবং হাজার বছর ধরে সিনেমার জন্য ২০০৫ সালে।

আর সংগীত জগতে অনবদ্য আবদানের জন্য ২০১০ সালে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে একুশে পদক দেয় সরকার।

তবে কেবল চলচ্চিত্রের জন্য সংগীত পরিচালনাই নয়, দেশের সমকালীন শিল্পীদের নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।

সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আব্দুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনকচাঁপাসহ বহু জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।

পাঠকের মতামত