এরদোগানের ‘গুরুত্বপূর্ণ দাবি’ মানতে হলো যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলেছেন, পিকেকের মদদপুষ্ট ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের মানবিজ থেকে বের করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া একমত হয়েছেন।এ দুই দেশ মানবিজের বিদ্রোহী ওয়াইপিজিদের সংখ্যা ও তাদের তালিকাও প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর মস্কো থেকে ফেরার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এরদোগান এ মন্তব্য করেন। খবর টিআরটির।

এরদোগান বলেন, আমাদের হিসেব মতে এখন মানবিজে এক হাজারের বেশি ওয়াইপিজি বিদ্রোহী রয়েছে।বিদ্রোহীরা তা অস্বীকার করলেও আমাদের কাছে তাদের নামসহ তালিকা রয়েছে।

কুর্দিদের বহিরাগত দাবি করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, মানবিজের ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ অধিবাসী আরব সুন্নি। এতেই বোঝা যায় এ শহরের আসল মালিকানা কাদের।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া এই বিদ্রোহীদের মানবিজ থেকে বের করার ঘোষণা দিয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের আন্তরিক দাবি হল, বিদ্রোহীদের দখল থেকে শহরগুলো তাড়াতাড়ি মুক্ত করে তাদের ফুরাত নদীর পূর্বপ্রান্তে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের বিষয়েই তুরস্ক কাজ করছে দাবি করে এরদোগান বলেন, সিরিয়ায় শুধু বিদ্রোহীদের নিয়েই আমরা কথা বলি। ইদলিব, মানবিজ ও ফুরাত নদীর পূর্বপ্রান্তে আমরা নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। পিওয়াইডি ও এর সশস্ত্র সংগঠন ওয়াইপিজির ব্যাপারে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা সিরিয়ান কুর্দিদের জন্য নিরাপদ অÂল গড়ে তোলার বিষয়টি বেশী গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ নিরপরাধ কুর্দিদের আমরা বিদ্রোহীদের সঙ্গে একপাল্লায় মাপতে চাই না।

প্রসঙ্গত,সিরিয়াভিত্তিক কুর্দি গোষ্ঠী পিওয়াইডি ও এর সশস্ত্র সংগঠন ওয়াইপিজিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে দেখে তুরস্ক। সংগঠন দুটিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল পিকেকের শাখা মনে করে তারা। তুরস্কের বিরুদ্ধে গত কয়েক দশক ধরে যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে পিকেকে।

তুরস্ক ও রাশিয়ার সম্পর্কের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে জানিয়ে এরদোগান বলেন, তুর্কি পর্যটকরা বিনা ভিসায় রাশিয়া ভ্রমণের বিষয়টি শেষ পর্যায়ে আছে। এখন শুধু তা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।

পাঠকের মতামত