লোকালয়ে আসা সেই ‘নীলগাই’ নিয়ে টানাটানি

দলছুট হয়ে ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের লোকালয়ে চলে আসা সেই ‘নীলগাইকে’ নিয়ে এখন টানাটানি শুরু হয়েছে।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার জোত বাজার থেকে উদ্ধারের পর এখন তার বর্তমান ঠিকানা রাজশাহীর বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে। প্রতিদিন এই নীলগাই দেখতে ভিড় জমাচ্ছে অসংখ্য দর্শনার্থী।

তবে ঝামেলা বেধেছে ঠাকুরগাঁওয়ে আরেকটি ‘নীলগাই’ পাওয়ার পর। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা চান, দুটি প্রাণীকে একসঙ্গে রাখতে। আর ‘নীলগাইকে’রাজশাহী চিড়িয়াখানার দাবি সিটি করপোরেশন কাউন্সিলরদের।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রজননসহ প্রাণী দুটিকে ভালোভাবে বাঁচানোর স্বার্থেই একসঙ্গে রাখা দরকার। ‘নীলগাই’ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত প্রাণী গবেষকরাও।

এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলার নুরুল্যাবাদ ইউনিয়নের জোতবাজার থেকে বনগরুটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জোতবাজার গ্রামের পাশে বনগরু ঘোরাঘুরি করছিল। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক গরুটি আটক করে বাজারে বেঁধে রাখেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয় এবং প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করা হয়। আটকের পর গরুটি অস্থিরতা বোধ ও লাফালাফি করছিল।

স্থানীয় আমিনুল ইসলাম বলেন, সকালে বাজারের পাশে পশুটি ঘোরাঘুরি করছিল। পরে কয়েকজন অপরিচিত এ পশুটি আটক করে বেঁধে রাখেন। বিশেষ করে এ পশুটি ডিসকভারি চ্যানেলে দেখা যায়। সম্ভব এটি বনগরু।

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, দলছুট হয়ে ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পথ ভুলে বাংলাদেশের লোকালয়ে চলে আসে বনগরুটি।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, প্রাণীটি উদ্ধার করে উপজেলায় আনা হয়। ‘নীলগাইয়ের’ উচ্চতায় অন্তত সাড়ে ৫ ফুট। ধূসর রঙের বিরল প্রজাতি এটি।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল থেকে একটি ‘নীলগাই’ উদ্ধার করা হয়। তাকে দিনাজপুর রামসাগর জাতীয় উদ্যানে রাখা হয়েছে। এবার মান্দায় আরও একটি ‘নীলগাই’ উদ্ধার হয়েছে।

‘নীলগাই’ বা ব্লু বুল যার বৈজ্ঞানিক নাম, বোসেলাফাস ট্র্যাগোকামেলাস। ভারত, পাকিস্তান ও নেপালে দেখা গেলেও এটি বাংলাদেশে বিরল।

বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাণীর সংখ্যা বাংলাদেশে এখন দুটিতে দাঁড়াল। আর সৌভাগ্যক্রমে এবারের প্রাণীটি পুরুষ। এরা দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক। তাই তাদের একসঙ্গে রাখা হলে স্বাভাবিক নিয়মেই বংশ বিস্তার করবে। ফলে বিলুপ্তপ্রায় এই বণ্যপ্রাণীটির সংখ্যা আবারও বাড়ানো যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাঠকের মতামত