সোহেল তাজের ‘কামিং সুন’ স্ট্যাটাস ভাইরাল

ফের আলোচনায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেইজে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি।‘coming soon…পাল্টে যাবে জীবন। কী হতে পারে?’ এই ৮টি শব্দের স্ট্যাটাস দেয়ার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয় ফেসবুকে।এ পর্যন্ত ১৭ হাজার লোক এটি লাইক করেছেন। মন্তব্য করেছেন ১২ শ’ জন।

সোহেল তাজের ভক্ত-শুভাকাঙক্ষী থেকে শুরু করে ফলোয়ার এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা মন্তব্য করতে থাকেন।তাদের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি হয়। অনেকেই ধারণা করেন ফের রাজনীতিতে ফিরছেন তরুণ এ রাজনীতিবিদ।সেই বার্তাই দিয়েছেন স্ট্যাটাসে।

যারা এই ধারণা করেন তাদের যুক্তিও ছিল।‘জীবনে আর রাজনীতি করবেন না’ এমন ঘোষণা দেয়া সোহেল তাজ একাদশ সংসদ নির্বাচনে বোনের পক্ষে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। সোহেল তাজের সরব প্রচার ও কৌশলে গাজীপুর-৪ আসনে বোন সিমিন হোসেন রিমি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।সোহেল তাজও কাপাসিয়াবাসীর কাছাকাছি পৌছেন। অনেক দিন পর তাকে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে যান।এতে অনেকের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল হয় যে, ফের রাজনীতিতে আসছেন সোহেল তাজ।

সোহেল তাজকে স্বাগত জানিয়ে রাজীব খান নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন যে, ‘পঁচাত্তরের পর সাধারণ জনগণ ঠিক আপনার মতো একজন জননন্দিত নেতার আশায় পথ চেয়ে বসে আছে।’

শাহানুর শাকিল নামে একজন লিখেছেন, ‘আপনাকে সুস্বাগতম হে মহান নেতা। জননেত্রী শেখ হাসিনার পাশে এত দিন সব চেয়ে বিশ্বস্ত হিসেবে ছিলেন সৈয়দ আশরাফ ভাই। কিন্তু তাঁর প্রয়াণে সেই জায়গাটি ফাঁকা হয়ে গেছে। আর সেই জায়গাটি পূরণ করার মতো কোনো ব্যক্তি বর্তমানে আওয়ামী লীগে নেই। আপনিই একমাত্র যোগ্যতম ব্যক্তি।’

তবে রাজনীতিতে ফেরার জল্পনার অবসান ঘটনা সোহেল তাজ নিজেই। তিনি জানালেন, রাজনৈতিক সংগঠন নয়, সামাজিক সংগঠন গড়তে যাচ্ছেন তিনি।

সাবেক এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘অপরাজেয় তুমি’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন তিনি, শিগগিরই এ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে সবাইকে অবহিত করবেন।

দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস প্রতিরোধ দূর করা হবে তার নতুন সংগঠনের কাজ। পাশাপাশি মানুষকে স্বাস্থ্যসচেতন করে তোলাও অপরাজেয় তুমির অন্যতম প্রধান কাজ বলে জানা গেছে। আগামী মার্চে পূর্ণাঙ্গ কাজের বিবরণসহ সংবাদ সম্মেলনে হাজির হবেন সোহেল তাজ।

প্রসঙ্গত ২০০৮ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সোহেল তাজ। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সোহেল তাজ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেও ২০০৯ সালের ৩১ মে মন্ত্রিসভা থেকে আচমকা পদত্যাগ করেন। চলে যান সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে।

২০১২ সালের ৭ জুলাই সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেন। মাঝেমধ্যে সামাজিক কর্মকাণ্ডে উপস্থিত থাকলেও রাজনীতিতে যুক্ত হবেন না বলে তখন সাফ জানিয়ে দেন সাবেক এ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সোহেল তাজ ফের আলোচনায় আসেন আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে। তখন রাজনীতির অন্দরমহলে আলোচনা শুরু হয় যে, সোহেল তাজ রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন। ওই সময় তিনি দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন।

দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে সোহেল তাজকে আনা হচ্ছে-এমন গুঞ্জনও শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাকে দেখা যায়নি।

ব্যক্তিগতজীবনে সোহেল তাজের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে তুরাজ আহমদ তাজ লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেছেন। সোহেল তাজ পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে থাকেন।

পাঠকের মতামত