বরিশাল হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর!

বরিশাল হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর!
উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে হয়তোবা আর বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে না! শুধু শিল্প আর ব্যবসা-বাণিজ্যেই নয়, পায়রার অদূরেই রয়েছে ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। যেখানে দাঁড়িয়ে উপভোগ করা যায় সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের অপরূপ সৌন্দর্য।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন পদ্মা সেতু আর পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে দ্বিতীয় সিঙ্গাপুরের মতো সক্ষম হচ্ছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি। এছাড়া দেশের দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র হতে যাচ্ছে বরিশালের হিজলা উপজেলার হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নের মেঘের চর নামক এলাকায়। ফলে দক্ষিণাঞ্চল হতে যাচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় ‘সিঙ্গাপুর’ শহর।

সঙ্গে রয়েছে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার বিরল সুযোগের পর্যটন কেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। পদ্মা সেতুর কল্যাণে রেললাইন আসছে পায়রা পর্যন্ত। এক হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প ১১ অক্টোবর একনেকের সভায় অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পায়রা এলাকায় নির্মিত হয়েছে বিদ্যুতকেন্দ্র। দক্ষিণাঞ্চলে রয়েছে বিস্তৃত নৌপথ, বরিশালে আইসিটি পার্ক, অর্থনৈতিক জোন, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, বরিশালের আগৈলঝাড়া ও ভোলায় বিশেষ অর্থনৈতিক জোন, ভোলা-বরিশাল ব্রিজ, ভোলার গ্যাস পাইপ লাইনের মাধ্যমে বরিশালে আনার উদ্যোগসহ বর্তমান সরকারের টানা দুবারের মেয়াদে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়নে এখানে ব্যাপক হারে গড়ে উঠবে দেশী-বিদেশী শিল্প-কলকারখানা।

পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হবে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। হবে ব্যবসায়িক জোন। এমন ভাবনায় আগে থেকেই দক্ষিণাঞ্চলমুখী হয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। নতুন করে অনেকে আসছেন স্বপ্নের ‘সিঙ্গাপুরের’ উদ্যোক্তা হতে। কেউ পছন্দের জমি পাচ্ছেন, কেউ এখনও খুঁজছেন। তবে আশা ছাড়ছেন না। কীভাবে গড়ে উঠবে স্বপ্নের ‘সিঙ্গাপুর’, কবে হবে দৃশ্যমান।

সময়ের প্রয়োজনে দ্রুত চোখে পড়বে আমূল পরিবর্তন। সবদিকের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে গ্রেটার বরিশাল দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্যুরিস্ট হাব, কমার্শিয়াল হাব এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাবে পরিণত হবে বলে মনে করছেন বরিশালের তরুণ উদ্যোক্তা মোঃ সালাহউদ্দিন রিপন। তিনি বলেন, মিল-ইন্ডাস্ট্রিজ গড়ে উঠতে প্রথমেই ট্রান্সপোর্টেশন (পরিবহন) প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ এবং সাশ্রয়ী হচ্ছে নৌ, রেল ও সড়কপথ। আকাশপথ এক্সপেনসিভ হলেও বরিশালে সব ধরনের যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকায় ঢাকা থেকে বরিশাল এবং পায়রা বন্দর পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে কোন আনসোল্ড জমি নেই। বরিশাল সদর উপজেলার সন্তান সালাহউদ্দিন রিপন আরও বলেন, গুরুত্ব বুঝে উদ্যোক্তারা দক্ষিণাঞ্চলে জমি ক্রয়ে ইতোমধ্যে বিপুল বিনিয়োগ করেছেন। এখন অপেক্ষা অবকাঠামোর।

আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, এখনও দক্ষিণের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। কৃষি-অর্থনীতির উন্নয়নে কৃষির বৈচিত্র্যকরণ, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির প্রয়োগ, নদীভাঙ্গন রোধ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ, লবণপানির প্রভাব মোকাবেলা, স্বল্পসুদে কৃষিঋণ এবং বাজারজাতকরণের জন্য প্রচুর অবকাঠামো নির্মাণ জরুরী। কৃষি ছাড়াও দক্ষিণে এখন শিল্পায়নের বিশাল সম্ভাবনা সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পূর্বে ভোলার গ্যাস, পশ্চিমে মংলাবন্দর, উত্তরে পদ্মা সেতু আর দক্ষিণে পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এই পাঁচের সম্মিলনে মাত্র কয়েক বছরেই জেগে উঠছে দক্ষিণাঞ্চল। দক্ষিণে সস্তা শ্রম, অব্যবহৃত জমি, কম খরচে নৌপরিবহনসহ সড়কপথেও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ব্যাপক শিল্পের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে অপসোনিনসহ অনেকেই শিল্প সম্প্রসারণ করেছে। উদ্যোগী হয়েছেন অনেকে।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপি সিঙ্গাপুর বনে যাওয়া সম্পর্কে বলেন, দ্রুতগতিতে চলছে পায়রা বন্দর ও পদ্মা সেতুর কাজ। ফোর লেন অনুমোদন দিয়েছে সরকার। পায়রা-কুয়াকাটা পর্যন্ত লেবুখালীর সেতু শেষ পর্যায়ে থাকলেও অন্যসব সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। নৌযোগাযোগের উত্তম ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রী ভোলার গ্যাস বরিশালে আনার ঘোষণা দিয়েছেন, কলাপাড়ায় হচ্ছে বিদ্যুত কেন্দ্র, লেবুখালীতে হয়েছে সেনানিবাস। পদ্মার এপার হচ্ছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বরিশালের হিজলা উপজেলায় হবে দেশের দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র্র। কুয়াকাটা ও বরিশালে সরকারী উদ্যোগে হচ্ছে দুটি ফাইভস্টার হোটেল। চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বরিশালে ব্যাপক হারে গড়ে উঠবে শিল্প-কলকারখানা। কর্মসংস্থান হবে লাখ লাখ মানুষের। সবকিছু মিলিয়ে শিল্প, ব্যবসা আর পর্যটনের ওপর ভিত্তি করে ‘সিঙ্গাপুরে’ পরিণত হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চল এমনটাই মনে করছেন তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপিসহ বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।

পাঠকের মতামত