আমি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী না: মোকাব্বির খান

বিএনপির সমর্থনে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত গণফোরাম নেতা মোকাব্বির খান নিজেকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনাই করেন না। বলেছেন, তিনি গণফোরামের প্রার্থী ছিলেন। ঐক্যফ্রন্ট তাকে সমর্থন জানিয়েছিল। ফলে সংসদ সদস্য হিসেবে তার শপথ নেওয়ার বিষয়টি গণফোরামের বিষয়, ঐক্যফ্রন্টের নয়।

আর গণফোরামের দলীয় বৈঠকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়ে মতামত এসেছে। তাই তিনি এ বিষয়ে ইতিবাচক। তবে যেহেতু আরো সময় আছে, তাই এই মুহূর্তে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে খানিকটা সময় অপেক্ষা করতে চান।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ছয়টি আসনে জয় পাওয়া বিএনপির প্রার্থীরা শপথ নেবেন না বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাদের জোটের শরিক গণফোরামের দুই নেতার শপথের পক্ষে ড. কামাল হোসেন- সেটা তিনি নিজে জানিয়েছেন। তবে এই বক্তব্যের পরেই আবার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শপথ নেবেন না কেউ।

এর মধ্যে মৌলভীবাজার-২ আসনে ধানের শীষ নিয়ে জেতা গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন গণমাধ্যমকে। তার এই সিদ্ধান্তের পর যোগাযোগ করা হলে সিলেট-২ আসনের মোকাব্বির খান জানান তার অবস্থান।

এই আসনটিতে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছিল নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনাকে। তবে তার নির্বাচনের পথ আটকে যায় উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে। জোটের শরিক গণফোরামের মোকাব্বিরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছিল আর শেষ সময়ে তাকে সমর্থন দেয় বিএনপি।

এলাকায় প্রায় অপরিচিত হলেও বিএনপির সমর্থনেই জিতে আসেন মোকাব্বির। যদিও তাকে বিএনপি সমর্থন দেওয়ার আগে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

সুলতান মনসুর শপথ নেওয়ার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনিও একই পথে হাঁটবেন কি না, এমন প্রশ্নে মোকাব্বির বলেন, ‘এই মুহূর্তে না’। তবে তিনিও যে শপথ নেওয়ার পক্ষে সেটা জানিয়ে দেন স্পষ্ট করে।

-আপনার সিদ্ধান্তও কি (শপথের বিষয়ে) ইতিবাচক হবে?

‘হ্যাঁ হ্যাঁ। ৯০ দিন তো আছে। এর মধ্যেই নিলেই তো হবে।’

‘প্রথমত, ড. কামাল স্যার বলেছিলেন ব্যক্তিগতভাবে উনি শপথের বিষয়ে ইতিবাচক। তারপর আমাদের (গণফোরাম) বর্ধিত সভা, সেন্টাল কমিটির বৈঠক হয়েছে। সেখানে শপথ গ্রহণের বিষয়ে মতামত এসেছে। তাছাড়া নির্বাচনী এলাকার অধিকাংশ মানুষই চান আমি যেন সংসদে যাই। সবকিছু মিলিয়ে এটা ইতিবাচক। স্যার দেশে আসলেই আলাপ আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

‘আমি একটা রাজনৈতিক দল করি। সেই দলের পক্ষে নির্বাচন করেছি। সেই দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তাই করব।’

বিধান অনুযায়ী সংসদ প্রথম অধিবেশনে বসার পর ৯০ দিনের মধ্যে কেউ শপথ না নিলে তার পদ শূন্য হবে। আগামী ৩০ জানুয়ারি ডাকা হয়েছে একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন। সে হিসাবে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর সুযোগ আছে।

মোকাব্বির খান নিজের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবেই বিবেচনা করেন না। এ বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি হলাম (ছিলাম) গণফোরামের প্রার্থী। উদীয়মান সূর্য্য মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেছি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আমাকে সমর্থন দিয়েছিল।’

-আপনারা শপথ নিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কি না…

-‘শপথ গ্রহণের বিষয়ে আমাদের আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা নিয়ে অগ্রিম বলতে পারবো না।’

-জাতীয় ঐক্যফ্রন্টতো নির্বাচন প্রত্যাখান করেছিল। এখন শপথ নেয়াটা কি দ্বৈতনীতি হয়ে যাবে না?

-‘আমাদের দুই (সিলেট-২ ও মৌলভীবাজার-২) আসনের নির্বাচনকে আমরা প্রত্যাখান করি নাই। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেই জনগণ এই আসনগুলোতে ভোট দিয়েছে এবং ভোট পাহারা দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। সুতরাং এটা প্রত্যাখান করার কোন সুযোগ নাই।’

সূত্র: ঢাকা টাইমস

পাঠকের মতামত