মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় গৃহবধূ রক্তাক্ত

মাদকসেবী স্বামীকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন তিনি। আর ঘরের পাশেই চলে মাদক কেনাবেচা, তা জানিয়ে দিয়েছেন পুলিশকে। মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার এই গৃহবধূ নাদিরা বেগমকে গতকাল সোমবার মারধর করেছে মাদকচক্রের সদস্যরা। আহতাবস্থায় তিনি ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নাদিরা বেগম ভৈরব বাজার কাঠপট্টি এলাকার মোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী। মাদকাসক্ত স্বামীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়ে নাদিরা একপর্যায়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দেন। পুলিশ মোফাজ্জলকে আটক করে জেলে পাঠায়। দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে নাদিরা বেগম পাঁচ মাস যাবৎ রাঁধুনি হিসেবে কাজ করছেন স্থানীয় একটি খাবার হোটেলে। গত বৃহস্পতিবার স্বামী মোফাজ্জল ছাড়া পেয়েছে জেল থেকে। এদিকে প্রতিবেশী মৃত শাজাহান পাগলার স্ত্রী ফরিদা বেগম, মেয়ে রূপা বেগম ও জামাতা বাছির মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে যুক্ত। ঘরের পাশেই চলে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকের বেচাকেনা। এ তথ্য নাদিরা জানিয়ে দেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। দুই দিন আগে বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালালে প্রতিবেশী ফরিদাসহ মাদকচক্রের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়। সোমবার সকালে এ কারণেই নাদিরার ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ মিলেছে। আহত নাদিরা জানান, ভৈরব বাজারের কাঠপট্টি এলাকায় গতকাল সকাল ১০টার দিকে হামলা হয়। মাদক কারবারি ফরিদাসহ অন্যরা তাঁকে মারধর করে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়।

পাঠকের মতামত